
নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শাখা। এ সময় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেল ৫টায় উপজেলার বাহিরগোলা মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্বাধীনতা চত্বরে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে ছাত্রশিবির, জামায়াতে ইসলামী এবং বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি শাহিন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক মো. সামিউল ইসলাম, গাইবান্ধা জেলা ছাত্রশিবিরের আইন সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম, সাহিত্য সম্পাদক মো. সাগর সরকার, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. শহিদুল ইসলাম সরকার মঞ্জু, সুন্দরগঞ্জ পূর্ব সাংগঠনিক থানা শাখার সভাপতি মো. জিসান রাকিব এবং সুন্দরগঞ্জ পৌর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. সুরুজ মিয়াসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, সাইফুল্লাহ বারী হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, সমগ্র সমাজের জন্যই বেদনাদায়ক ও উদ্বেগজনক ঘটনা। প্রকাশ্য দিবালোকে একজন তরুণ ছাত্রনেতাকে হত্যা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হত্যার সঙ্গে জড়িত সকলকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গভর্নিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রকাশ্যে সংঘটিত এমন নৃশংস হামলা সমাজে অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে তুলছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ সময় বক্তারা দেশে খুন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা। পাশাপাশি বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি তোলেন।
সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা সুষ্ঠু বিচার, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
উল্লেখ্য, কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন ও সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গত রোববার বিকেলে বোনারপাড়া চৌমাথা এলাকায় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী ও শিবিরকর্মী সালাহউদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সাইফুল্লাহ বারী গুরুতর আহত হলে তাকে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একই ঘটনায় আহত সালাহউদ্দিনকে প্রথমে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
নিহত সাইফুল্লাহ বারী সাঘাটা উপজেলার শিমুলতাইড় গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। তিনি বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং রংপুরের সাতগড়া মডেল কামিল মাদ্রাসার আল-কুরআন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।