
নিজস্ব প্রতিবেদক:
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতেের প্রতিবাদে এবং দ্রুত নির্বাচন বাস্তবায়নের দাবিতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে সুন্দরগঞ্জ পৌরশহরের বাহিরগোলা মসজিদ মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি পৌর শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্বাধীনতা চত্বরে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এ সময় শাকসু নির্বাচন স্থগিতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক মো. সামিউল ইসলাম। তিনি বলেন, শাকসু নির্বাচন স্থগিত শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের শামিল। একটি পক্ষ নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বন্ধের ষড়যন্ত্র করছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সোহান ইসলাম-এর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা জেলা ছাত্রশিবিরের বাইতুলমাল সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, জেলা শিবিরের বিজ্ঞান সম্পাদক মো. শাকিল আহমেদ, সুন্দরগঞ্জ পৌর সাংগঠনিক থানা সভাপতি মো. শাহিন সরকার, সুন্দরগঞ্জ পূর্ব সাংগঠনিক থানা সভাপতি মো. আবু রায়হানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, ২০ জানুয়ারি শাবিপ্রবিতে শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সেখানে একটি ছাত্র সংগঠনের রাজনৈতিক দুর্বলতা প্রকাশ পেত। সেই লজ্জাজনক পরাজয় এড়াতেই শাকসু নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। তারা ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করতে চায় না।
তারা আরও অভিযোগ করেন, উচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে শাকসু নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই একটি পক্ষ কৃত্রিম পরিস্থিতি সৃষ্টি করে স্থগিতাদেশ আদায় করেছে। শাকসু নির্বাচন বন্ধ রাখা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট ষড়যন্ত্র।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন শিক্ষার্থীদের ন্যায্য ও সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব। নির্বাচন বন্ধ রেখে শিক্ষাঙ্গনে মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করা হচ্ছে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে শাকসু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না করা হলে দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সমাবেশে ছাত্রশিবিরের কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।