
নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে মজুত রাখা ১৩৩ বস্তা টিএসপি সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (২৭ জুলাই) রাত ৮টার দিকে উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের পিনুর মোড় এলাকায় খুচরা সার ব্যবসায়ী বাদশা মিয়ার ঘর থেকে এসব সার উদ্ধার করা হয়। তিনি হুড়াভায়াখাঁ গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।
অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিম উদ্দিন। অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাশিদুল কবির, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান এবং সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি টিম।
প্রশাসনের বরাতে জানা গেছে, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে বাদশা মিয়ার দোকানে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ টিএসপি সার মজুত করা হয়েছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে সারগুলো জব্দ করে।
তদন্তে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত সারগুলো বিসিআইসি অনুমোদিত ডিলার ননি গোপাল সরকার এবং মৃত প্রদীপ সরকারের বরাদ্দ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। তারা এসব সার খুচরা বিক্রেতা বাদশা মিয়ার ঘরে সরবরাহ করেছিলেন, যা নিয়মবহির্ভূত ও অবৈধ।
এ বিষয়ে স্থানীয় একাধিক সূত্র অভিযোগ করেছে, সারগুলো পূর্বপরিকল্পিতভাবে মজুত করা হয়েছিল এবং কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যেই তা খুচরা ব্যবসায়ীর হেফাজতে রাখা হয়। তারা আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ডিলাররা নির্ধারিত সরকারি গোডাউনে সার না রেখে গোপনে বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করে আসছেন, যেখানে কিছু অসাধু কৃষি কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
গাইবান্ধা জেলা বাফার ইনচার্জ মো. হারুনুর রশিদ জানান, উদ্ধার হওয়া সার ডিলার ননি গোপাল সরকার উত্তোলন করেন এবং সার পরিবহনকারী ট্রাকের নম্বর ছিল ‘ঢাকা মেট্রো-ন ১৯-৫৯৮৫’।
এ বিষয়ে ননি গোপালের ছেলে রিপন বলেন, “প্রদীপ চন্দ্রের বরাদ্দকৃত সার আমি তার ম্যানেজার জয়ন্ত বাবুকে বুঝিয়ে দিয়েছি। বাদশা মিয়ার ঘরে কীভাবে পৌঁছাল, সেটা জয়ন্ত বাবুই ভালো বলতে পারবেন।”
প্রদীপ সরকারের ম্যানেজার জয়ন্ত বাবুর দাবি, “সারগুলো বিক্রি করা হয়নি। গোডাউনে জায়গার অভাবে সাময়িকভাবে পাশের ইউনিয়নের ব্যবসায়ী বাদশা মিয়ার ঘরে রাখা হয়েছিল।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাশিদুল কবির বলেন, “বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো জব্দ করি। বর্তমানে তা আমার জিম্মায় রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৩৩ বস্তা টিএসপি সার জব্দ করি। ঘরটি তালাবদ্ধ থাকায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকৃত সার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সারগুলো ডিলার ননি গোপাল ও প্রদীপ সরকারের বরাদ্দ থেকে এসেছে। তাদের গোডাউন যথাক্রমে সোনারায় ইউনিয়নের ছাইতানতোলা বাজার এবং রামজীবন ইউনিয়নের ডোমের হাট বাজারে অবস্থিত। দহবন্দে এই সার কীভাবে পৌঁছাল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং তারা দোষীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।