মো: জহিরুল ইসলাম: ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
নির্বাচনের পরিবেশ এখন পর্যন্ত অনুকূলে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ (মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা আশা করছি ভালো একটা নির্বাচন হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে গণতন্ত্রের পরিবেশে ফিরে যেতে পাড়বো, সব কিছুতেই গণতন্ত্রের চর্চা করার সুযোগ হবে।’
তিনি বলেন, ‘কিছুটা উদ্বেগ থেকে যায় এজন্য যে বিগত ১৫ বছরে এত কারচুপি হয়েছে, এত ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে যে- একটা ভালো নির্বাচন হতে পারে এটাই অনেকে ভাবে না। মাথার মধ্যে সবসময় কাজ করে কারচুপি বা ইঞ্জিনিয়ারিং হবে। তবে আমি দেখেছি- সামগ্রিকভাবে আমার মনে হয়- নির্বাচনটা ভালো হবে। এবারের নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং খুব একটা বেশি ইফেক্ট তৈরি করতে পারবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি- সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী তারা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। রাজনৈতিক মতামত অনেকেরই থাকতে পারে কিন্তু যখন আপনার দায়িত্ব আসে, সে দায়িত্ব নিয়ম অনুযায়ী পালন করা সকলের উচিত হবে। এবার চেক অ্যান্ড কাউন্টার ব্যালেন্স এমন ভাবে আছে- এই তথাকথিত ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সমস্যা আমি দেখি না।’
বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘সকলের একটা উদ্বেগ নির্বাচনটা ঠিকঠাক ভাবে হবে কি না, আমি এখন পর্যন্ত নির্বাচনের যে পরিবেশ সেটাকে ভালো দেখলাম। প্রথমদিকে যে কয়েকটা ঘটনা ঘটেছে, তারপর সবাই সংযত হয়েছেন, সেই সংযত হয়ে আমি মনে করি- এখন পর্যন্ত নির্বাচনের যে পরিবেশ সেটা অনুকূলে ছিল।’
জামায়াত নিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে যখন একটা নতুন দল আত্মপ্রকাশ করে তখন তার একটু আওয়াজ বেশি হয়। আর জামায়াত তো আপনার অত্যন্ত কৌশলী দল, তারা বিভিন্নভাবে কৌশলে বিভিন্ন প্রচারণা চালায় এবং অনেক বেশি মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও বিভ্রান্ত ছড়ায়। এরইমধ্যে সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যু নিয়ে জামায়াত সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরোপুরি মিথ্যা ফেইক অপপ্রচার চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। আমি মনে করি- এগুলো অপপ্রচার, অপকৌশল, আর মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা। তাদের এসব বিষয় খুব একটা কাজে দেয় না।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মানুষের ওপর যদি আপনার আস্থা থাকে, তাহলে আস্থা রাখতে হবে সে ভোটে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। মানুষ এত বোকা না যে তাকে সহজে বোকা বানানো যায়।’
ঠাকুরগাঁওয়ে তারেক রহমানের সফর অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ে আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে সফর, সেটা অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে। আমি মনে করি তারেক রহমানের সফরটা বিএনপির রাজনীতিকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে গেছে।’
এই নির্বাচনে বিএনপির প্রত্যাশার কথা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ নির্বাচনে প্রত্যাশা একটাই। যেটা হচ্ছে, দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর ধরে আমরা লড়াই করেছি, সংগ্রাম করেছি গণতন্ত্র উত্তরণ- সোশ্যাল ডেমোক্রেসি, মানে গণতন্ত্রকে আবার পুনরায় ফিরিয়ে নিয়ে আসা; এ নির্বাচনটা হবে গেটওয়ে, এই গেটওয়ে পার হলে আমরা একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরে যেতে পারবো এর মাধ্যমে। আমি সেজন্যই আশা করছি- নির্বাচনটা সুষ্ঠু হলে গণতন্ত্রের যে ব্যবস্থা রাষ্ট্রব্যবস্থা, সমাজব্যবস্থা, সবকিছুতেই গণতন্ত্র চর্চা করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। সেজন্যেই এই নির্বাচনটাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক বেশি গুরুত্ব দেই।’
নির্বাচনের ফলাফল শুক্রবারের মধ্যে আসবে, বিএনপি এটাকে স্বাগত জানাবে কি না এমন প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা সবসময় নির্বাচনের ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছি। আমরা আজ পর্যন্ত, অতীতেও কখনো নির্বাচনের ফলাফলকে ডিলিট করিনি। আমরা ২০০৮ সালের নির্বাচনে যখন ৩০টা সিট পাই তখনো স্বাগত জানিয়ে সংসদে গিয়েছি।’
নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করার প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর কমবেশি সবাই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এবং তাদের নিজস্ব সচেতনতা রক্ষা করে নির্বাচনটা যেন হয় সেভাবেই তারা কাজ করেছেন। আমি খুব আশাবাদী এখানে নির্বাচন ভালো হবে, এটা আমরা আশা করছি।’
এসময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আতাউর রহমান মুকুল
What's App: +8801710-489904 E-mail: db71pratidin@gmail.com